জ্যোৎস্না রহমানের ছোট গল্প, একটি মেয়ের অন্ধ প্রেম (শেষ পর্ব)

ছোট গল্প –


একটি মেয়ের অন্ধ প্রেম

জ্যোৎস্না রহমান


শেষ পর্ব–

বন্ধুরা শত চেষ্টা করেও কলি কবিরকে ধরে রাখতে পারলো না।
কলি কবিরের পায়ে ধরেও অনেক কান্নাকাটি করলো কিন্তু কবির কলির দিকে ফেরেও তাকালো না।
শুধু এই কথাই বললো কবির কলিকে তুমি যেদিন আমাকে বিদেশ পাঠাবে, আমি সেদিন আসবো, এই কথা বলে কবির তাহার সব কিছু নিয়ে ঘর থেকে বের হয়ে গেল। কবির চলে গেল কিন্তু কবির বুঝতে পারলো না সে তাহার কি সম্পদ কলির কাছে রেখে যাচ্ছে।এদিকে কবির ঘর থেকে বের হবার সাথে সাথে কলি চিৎকার করে জ্ঞান হারালো, কলির চিৎকার শুনে বাড়ীওয়ালি আসলো এবং কলিকে বিছানায় তুলে শোয়ে দিল এবং কলির মাথায় পানি দিতে লাগলো।আর বাড়ীওয়ালি কলির মাকে ফোন দিলেন।
কলির মা ফোন পেয়ে পরের দিন কলি বাসায আসলেন। কলির মা কলির এ অবস্হা দিকে কলিকে ডাক্তরের কাছে নিয়ে গেলেন। ডাক্তার দেখালেন এবং একটি টেস্ট দিল ডাক্তার, টেষ্টে ধরা পড়লো কলি মা হতে চলছে।
পরের সকালে কলির মা কলিকে নিয়ে সিলেটে আসলেন। বাড়ীতে এসে কলি
আরও অসুস্হ হয়ে গেল মানষিক ভাবে
এদিকে কলির মা কলিকে চাপ দিতে লাগলেন বাচ্ছা নষ্ট করার জন্য, কিন্তু কলি তাহাতে রাজি হল না।
সে মাকে বুঝিয়ে বললো বাচ্ছা সে নষ্ট করবে না এই বাচ্ছাই তাহার আগামি
পথ চলার পাথেয়। মায়ের কাছে অনেক কাঁদলো। মেয়ের কান্না দেখে কলির মা আর কিছু বললেন না। কলি দুঃখ কষ্ট মধ্য দিয়ে তাহার দিন চলতে থাকলো।
দশ মাস দশ দিন পর কলির কোল জুড়ে ফুটফুটে একটি ছেলে সন্তান আসলো। সন্তানের মুখ দেখে তাহার সব দুঃখ কষ্ট দুর হযে গেল।যন্তন করে বাচ্ছাকে লালন-পালন করতে লাগলো
কবিরকে আস্তে আস্তে ভুলে যেতে লাগলো। এদিকে বাচ্ছার বয়স তিন মাস হতেই কলির বোন আমেরিকা হতে দেশে ফিরলেন। উনি দেশে এক বছর থাকলেন, যাবার সময় কলির বাচ্ছাকে সাথে নিয়ে আমেরিকাতে চলে গেলেন। বাচ্ছার সুন্দর ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে, কলি বাচ্ছাকে বোনের সাথে দিতে বাধ্য হল।

কবির আজও জানলো না তাহারই ঔরষজাত একটি সাত রাজার ধন কলির কোলে আছে।

কবির কলিকে ফোন দিত কিন্তৃ কলি কখনো ফোন ধরতো না। আজ ও অবধি কলি কবিরের ফোন রিসিভ করে না।দেখতে দেখতে সাতটি বছর পার হয়ে গেছে কলি একাকী কাটিয়ে দিতেছে তাহার জীবনের প্রতিটি দিন। ভাই বোন অনেক চেষ্টা করেছেন কলিকে বিয়ে দিবার জন্য কিন্তু কলি রাজি হয়নি। কলি তাহার বাচ্ছাকে নিয়ে বাকি জীবন অতিবাহিত করতে চায়।

সমাপ্তি,,,

জ্যোৎস্না রহমানের কবিতা – সুন্দর ভূবনে

সুন্দর ভূবনে

জ্যোৎস্না রহমান


মরিব-মরিব বন্ধু তব বিরহ শোকে, হারাতে চাইনা তোকে
এই সুন্দর ভূবনে।

যদি যাবে ভূলে কাজ নাহি কোন ছলে,
এক বুক জ্বালা নিয়ে ঘর বাঁধিব
বিজন কাননে।
হারাতে চাইনা বন্ধু তোকে এই জীবনে।

নাহি ভয় নাহি লাজ
প্রেমপ্রীতি সরাতে বিরাজ
কথা দাও কথা বন্ধু ভূলিবেনা জীবনে মরণে।
হারাতে চাইনা তোকে এই সুন্দর ভূবনে।

জ্যোৎস্না রহমানের ছোট গল্প, একটি মেয়ের অন্ধ প্রেম (পর্ব-৬)

ছোট গল্প-

একটি মেয়ের অন্ধ প্রেম

জ্যোৎস্না রহমান


পর্ব-৬


বন্ধুরা, পুরুষ শাষিত সমাজে নারীরা কতটুকু অধিকার পাচ্ছে কতটুকু সম্মান পাচ্ছে। কবিরের মত পুরুষদের কারণে নারীরা লাঞ্ছিত হচ্ছে সমাজে।নারীরা পতিতাতে আশ্রয় নিতেছে সেই পুরুষদের কারণে, পুরুষকে বিশ্বাস করাটাই কি নারীদের ভূল।


বন্ধুরা, গল্পতে আসি।

কবিরের ব্যবহারে অত্যাচারে কলি দিন দিন অতিষ্ঠ হয়ে উঠলো, প্রায়ই কলি কবিরের সাথে ঝগড়া করতো এবং কখনো ভালোবেসে কাছে বসে বুঝাতো। চোরে কি ধর্মের কথা বুঝে। দেখতে দেখতে ভাঙা গড়ার মধ্য দিয়ে কলি আর কবিরের সংসারের চার বছর অতিবাহিত হল। একদিন রাতে কলির খুব জ্বর উঠলো বাসায় কবির নাই, দু-দিন হল কবির বাসাতে আসে নাই, কলি কবিরকে ফোন দিল
এবং কবিরকে বললো তুমি বাসায় আসো আমার খুব জ্বর, কলির কথা শুনে কবির কলিকে বললো তুমি তোমার মায়ের কাছে চলে যাও আমি আসতে পারব না। কলি কবিরের কথা শুনে ফোন রেখে, বাসার মালিকের বউকে ডাকলো। মালিকের বউ কলিকে খুব ভালোবাসতো কলির অবস্হা দেখে কলির মাথায় পানি দিল ও তাহার ঘর থেকে জ্বরের জন্য প্যারাসিটামল খাওয়ালো এবং কলিকে বুঝালো। কলিকে বললো এই ভাবে তুমি জীবন কাটাতে পারবেনা তুমি তোমার মায়ের কাছে চলে যাও। কলি চুপচাপ মালিকের বউয়ের কথা শুনলো কিছুই বললো না। কিন্তু মনে মনে ভাবলো সত্যিই এই ভাবে কি জীবন চলে। কবির দু-দিন পর বাসায় আসলো কিন্তু কলির সাথে কোনো কথাই বললো না। পরের দিন সকালে কলিকে জিজ্ঞেস করলো তোমার কি জ্বর কমে নাই, কলি উত্তরে শুধুই বললো, না। তারপর কবির কলিকে বললো আমি অন্যখানে চলে যাব তোমার সাথে আমি আর থাকতে চাইনা, এ কথা বলে কবির তাহার কাপড় চোপড় গুছাতে লাগলো, কলি শোয়ে ছিল কবিরের কাপড় গুছানো দেখে বিছানা থেকে নেমে আসলো এবং কবিরকে জড়িয়ে ধরে কাঁদতে লাগলো
কবিরকে বললো তুমি চলে গেলে আমি কি নিয়ে থাকব।
(চলবে)

জ্যোৎস্না রহমানের গল্প- একটি মেয়ের অন্ধ প্রেম (পর্ব-৫)

ছোট গল্প-

একটি মেয়ের অন্ধ প্রেম

জ্যোৎস্না রহমান


পর্ব – ৫


বন্ধুরা, গল্পটি ছোট করে নিব আমার ব্যস্ততার কারণে।
কলির সংসার তিন মাস ভালই কাটছিল। তিন মাস পর কলির বিশ্বাস ভাঙতে শুরু করলো।
বন্ধুরা এবার কবিরের কথা বলি, কবির চরিত্রহীন লোভী ছিল, এক প্রবাসি স্ত্রীর সাথে তাহার সম্পর্ক ছিল এবং ওই মহিলাকে নিয়ে চার বছর এক ভাড়া বাসাতে থেকেছে স্বামী স্ত্রী পরিচয় দিয়ে।তাদের অবৈধ দু-বছরের একটি সন্তানও আছে। প্রবাসি তাহার স্ত্রীকে তালাক না দেওয়াতে কবির ওই মহিলাকে বিয়ে করতে পারে নাই।
বন্ধরা, কলি কবিরের এক বন্ধুর কাছ থেকে সব জানতে পারলো, আরো জানতে পারলো কবিরের মা-বাবা ভাই-বোন সব আছে, কিন্তু কলির কাছে কবির বলছিল তাহার কেউ নেই সে এতিম। কলি সব কিছু জেনে প্রায় পাগলের মত হযে গেল, তাহার মাকে ফোন করে বিস্তারিত জানালো, মা সব কিছু জেনে মেয়ের কাছে ছুটে আসলেন। কলি ঠিকমত খাওয়া দাওয়া করতো না সব সময় রুমে দরজা বন্ধ করে থাকতো কাহারো সাথে বেশি কথা বলতো না। কবির কলির প্রতি তেমন নজর রাখতো না। কলি নিজের সাথে নিজে দ্বন্দ করতে করতে পাগল হয়ে গেল, কলির মা কলিকে ডাক্তার দেখালেন এবং ছয় মাস পর কলি স্বাভাবিক হতে লাগলো। কলির মা কলিকে তাহার বাড়ীতে নিয়ে আসতে চাইলেন কিন্তু কলি আসতে রাজি হল না। বাড়ীতে এসে কি ভাবে ভাইদের কাছে মুখ দেখাবে। কলি তাহার মাকে বললো মা আমাকে কিছুদিন সময় দাও আমি কবিরকে বুঝিয়ে ভাল করে নিব।
মেয়ের কথা শুনে কলির মা,বাড়ীতে চলে গেলেন। কলির একা বাসায় সময় কাটেনা তাই সে নিজেকে ভাল রাখার জন্য প্রাইভেট একটি স্কুলে চাকুরি নিল। এদিকে কবির ঠিকমত বাসায় আসতো না, দু-একদিন পর পর বাসায় আসতো,
কলি কবিরকে কিছু বলতে গেলে কলিকে মারধর করতো। আর কলিকে বলতো তুমি তোমার ভাইদের সাথে আলাপ করে আমাকে বিদেশ পাঠিয়ে দাও, তারপর সব ছেড়ে তোমার কাছে চলে আসবো, আমি তো তোমাকে বিয়ে করছি বিদেশ যাবার জন্য।

(চলবে)

জ্যোৎস্না রহমানের ছোট গল্প -একটি মেয়ের অন্ধ প্রেম (পর্ব- ৪)

একটি মেয়ের অন্ধ প্রেম

পর্ব–৪

জ্যোৎস্না রহমান

বন্ধুরা-কলির ভাইয়ারা ও বোন বিয়েতে
কোনো মতে রাজি হয় নাই।
কলির মা মেয়ের প্রেমের কাছে হেরে গিয়ে নিজে বাধ্য হয়ে কবিরের হাতে মেয়েকে তুলে দিলেন।
কবির ও কলির সংসার জীবন–
কবির কলিকে নিয়ে ঢাকাতে একটি ভাড়া বাসাতে থাকতো, খুব আনন্দে খুশিতে চলছিল তাহাদের সংসার। কবির প্রতিদিন অফিস করতো, অফিসে যাবার সময় কলি নিজ হাতে কবিরকে খাইয়ে পোষাক পরিধান করে দিত। কলি কবিরকে খুব ভালোবাসতো, কলির মনে কোনো চাওয়া-পাওয়া ছিলনা, সে শুধুই চেয়েছিল কবিরকে নিয়ে ভালোবাসায় পরিপূর্ণ একটি সুখের নীড় গড়তে। সেখানে থাকবে শুধু আনন্দ আর হাসি গান, কলি পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করতো, আল্লাহ যেন তাহার সংসার স্বর্গ সুখের উল্লাসে ভরে দেন।
কিন্তু কবিরের মনে ছিল অন্য কিছু, সে কলিকে বিয়ে করেছে জীবনের উপরের সিঁড়ি বেয়ে উঠার জন্য। কলিদের ধন, সম্পতির মোহে পড়ে সে কলিকে বিয়ে করেছে। কলির সাথে খুব নিঁখুত অভিনয় করে আসছে কলি তাহা ঘুনাক্ষরে ও বুঝতে পারে নাই।
খুব হাঁসি খুশি ভালোবাসা আদান প্রদানে কেটে গেল তিনটি মাস কলি আর কবিরের সংসার।
একদিন কবির লান্চের সময় বাসায আসলো না, কলি কবিরের অপেক্ষা করতে লাগলো, লান্চের সময় পার হয়ে যাইতেছে দেখে কলি কবিরকে ফোন দিল এবং কবিরের ফোন বন্ধ। কলি চিন্তা করতে লাগলো কবিরের কি হয়েছে কবিরের ফোন বন্ধ কেন? কলি কবিরের কথা ভাবতে ভাবতে দুপুরের খাবার খায় নাই, এই অচেনা শহরে কবির ছাড়া কে আছে কলির আপন, কবিরের কিছু হলে কি নিয়ে বাঁচবে। এই সব ভাবতে ভাবতে কলি সন্ধ্যার সময় আবার কবিরকে ফোন দিল, কবিরের ফোনে রিং হল কবির ফোন ধরলো এবং কলিকে কবির বললো বাসায় আসতে দেরী হবে। কলি স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে কবিরের জন্য অপেক্ষা করতে লাগলো।
রাত ১২ ঘটিকার সময় কবির বাসায় আসলো, কলি কবিরকে কোনো প্রশ্ন করলো না।
(চলবে)

জ্যোৎস্না রহমানের ছোট গল্প একটি মেয়ের অন্ধ প্রেম (পর্ব ৩)

ছোট গল্প –

একটি মেয়ের অন্ধ প্রেম

পর্ব-৩


কলির মা অনেক কান্নাকাটি করার পর
মেয়েকে ডেকে কাছে বসালেন এবং অনেক বুঝালেন, এবং কলিকে বললেন এমন ছেলেরা ভাল হয় না, সে তোকে ধুকা দিতেছে সে বলছে তাহার মা-বাবা নেই, হয়তো তাহার সব আছে। আর আমার এমন কেউ নেই যে তাহার খুঁজ খবর নিব, তোর ভাইয়ারা এ বিয়ে মেনে নিবে না, আমরা তোকে ভাল জায়গাতে বিয়ে দিব, তুই নিজেকে সংযত কর, কথার অবাধ্য হবে না।কলি কবিরের প্রেমে ভয়ার্ত নীল কন্ঠি হয়ে উঠেছে। মায়ের কথা শুনে, কলি চিৎকার করে বললো কবির খুব ভাল ছেলে আমি তাকে কথা দিয়েছি তাকেই বিয়ে করব, যদি তোমরা তাহার সাথে আমাকে বিয়ে না দাও তাহলে আমি আমার জীবন রাখব না। মেয়ের এই দূঢ়তার সাথে কথা শুনে কলির মা কলির গালে কষে একটি চড় মারলেন এবং বললেন তুই মোর, এ বিয়ে হবে না। কলি চড় খেয়ে মায়ের সব কথা শুনে, খুব রাগ করে তাহার রুমে ঢুকে দরজা লক করে দিল এবং কাঁদতে লাগলো। কলির মা কলির হাত থেকে ফোন কেড়ে নিয়েছিলেন তাই কলি কবিরকে ফোন দিতে পারছিল না, কলি মনের কষ্টে জোরে জোরে কাঁদতে লাগলো। তিনদিন তিনরাত অতিবাহিত হল কলি রুমের দরজা খুঁলে নাই ও খাওয়া দাওয়া করে নাই।মায়ের প্রাণ কাঁদতে লাগলো মেয়ের অবস্হা দেখে। কলির মা অনেক চেষ্টা করেও মেয়ের রুমের দরজা খুঁলতে পারেন নাই, অবশেষে মেয়ের জেদের কাছে হার মেনে কলিকে বললেন আমি তোর ভাইদের সাথে আলাপ করে তোকে কবিরের সাথে বিয়ে দিব তুই দরজা খুলে খাওয়া দাওয়া কর। কলি মায়ের কথা শুনে দরজা খুলে ও মায়ের গলা ধরে অনেক কাদঁলো।
এদিকে কলির মা ছেলে-মেয়েদের সাথে ফোনে কলি ও কবিরের বিয়ে নিয়ে আলাপ করলেন।