জ্যোৎস্না রহমানের কবিতা-অনন্ত প্রেমে

অনন্ত প্রেমে

জ্যোৎস্না রহমান

আমি চাই দেবত্বের মহত্ব প্রাণ
ঐশ্বর্য ক্ষমতা না
আমার নিঃস্ব প্রাণ
চাইনা, ধরণীর ক্রীড়ামত্ত রসিক শেখর।

এ জীবন প্রতিক্ষায় কাতর
শান্তির ললিত বাণী শুনিব কখন
ঘরে ঘরে আছে অনেক প্রেমিকজন
তাহারে আমি ফিরি খুঁজিয়া।বাঞ্চিত প্রাণ পাইলে
বেঁধে নিব বক্ষে জড়াইয়া তাকে
অনন্ত প্রেমের স্পর্শিত হবো
তাহার বুকের স্পন্দনে।।

জ্যোৎস্না রহমানের কবিতা – ঋতুরাণী শরৎ

ঋতু রাণী শরৎ

জ্যোৎস্না রহমান

“আজিকে তোমার মধুর মুরতি
হেরিনু শারদ প্রভাতে।”
তরুলতা, বৃক্ষরাজি শরতের মায়াময়
স্পর্শে আজি চঞ্চল প্রকৃতি,
মুগ্ধকর রূপ নিয়ে করিতেছ খেলা
ওগো ঋতুরাণী শরৎ..!

কাশবনে খেলা করে দক্ষিণা বাতাস
মৃদু-মন্দ সমীরণে প্রাণখানি জুড়ায়
রাতে আকাশে লক্ষ তারার মাজে
চাঁদ খিলখিল হাসে,
রুপালি জ্যোৎস্নার আলোয়, বিলে ঝিলে
শাপলারা প্রাণ খোলে নাচে।

কখনো শুধুই নীল, মেঘহীন আকাশ
মেঘ আর বৃষ্টিতে লুকোচুরি খেলা
প্রকৃতি বুনে কুয়াশার চাদর
মন চায় প্রিয়তমকে করিতে আলিঙ্গন..!

এই পানি এই কাদা কোথাও হাঁটু জল
জাম্বুরা, কদবেলের মোহনীয় ঘ্রান
ধান ক্ষেতে ধানশীষ ঘোমটা দিয়ে হাসে
নবান্নের আয়োজন ঘরে ঘরে চলে।

কূলবধু কাদা জলে লেপে ঘর আঙিনা
দুর্গা আসে বাপে বাড়ী ঢাক-ঢোল বাজিয়ে, অসুরেরা সারাক্ষণ
কাঁপে থর থর…!

মাঝি-মাল্লা গান গেযে দাঁড় টেনে চলে
হাসা-হাসি শান্ত জলে ডুব সাঁতার খেলে,চির চেনা শরতের অপরূপে
বিমোহিত আমি
প্রিয়তমর জন্য ভালোবাসার আচঁল
বিছিয়ে, অপেক্ষায় দিন কাটাই।।

জ্যোৎস্না রহমানের কবিতা – প্রেমের অনুভূতি

কবিতা


প্রেমের অনুভূতি

জ্যোৎস্না রহমান

তোমার সাথের প্রতিটি কথাই কবিতা,
প্রতিটি মুহূর্ত আনন্দের
তুমি যখন চলে যাও,হৃদয়ের
সুখের প্রদীপ নিভে যায়।

হাতের কলম থেমে যায়
লেখা হয় না আর কবিতা
গোপনে রয়ে যায়
সুদূর অগোচরে অরণ্য মর্মরতা..!

তোমাকে জড়িয়ে আমার অনুভূতিগুলি
শত ক্রোশ পথ হেঁটে যায়..!

আমি, ঐ স্বপ্নিল পাহাড় চূড়ায় দাঁড়িয়ে,
চিৎকার করে বলি
ভলোবাসি, ভালোবাসি তোমায়
তুমি শুনতে পাওনা।

আমি সমুদ্রতীরে নগ্ন পায়ে হেঁটে যাই,
তোমার হাতে হাত রেখে
পরক্ষণে হারিয়ে যাও, পাইনা খুঁজে তোমায়
আকন্ঠ তৃষ্ণা ছোঁয়ে যায় মন!

তুমি নির্ঘুম নিশীথে আত্মা গোপনে, থাকো দন্ডায়মান
প্রগাঢ় প্রণয়ে শতরূপে
নিরবে কর কত কথোপথোন।

কখনো কল্পনায় কখনো নিশ্চিত নিশ্বাসে
শুনি অবিশ্রান্ত প্রেমের কলস্বন
খরতপ্ত হৃদয়ে আনে কম্পন
তলিয়ে নিয়ে যাও অতই গভীরে..!

লেনা-দেনাহীন এ প্রেমের অধ্যায়
হৃদয়ে রাখিব ধরি,
আমার প্রেম হৃদয়ে
তোমার মৃগ-লোচন রবে চিরক্ষয়।

আমার কল্পলোক জুড়ে রহিবে অম্লান
পরম আত্মার সুখের জন্য
তোমাকে ভেবে ভেবে
পুড়ে না হয় হলাম দহন..!

কালের আবর্তিতে বাধা এ জীবন
অন্ধকার নামে সকল উৎসাহে
কষ্টরা সব ভর করে মেঘ হয়ে
আমার গভীর মন আকাশে।।

জ্যোৎস্না রহমানের ছোট গল্প, একটি মেয়ের অন্ধ প্রেম (শেষ পর্ব)

ছোট গল্প –


একটি মেয়ের অন্ধ প্রেম

জ্যোৎস্না রহমান


শেষ পর্ব–

বন্ধুরা শত চেষ্টা করেও কলি কবিরকে ধরে রাখতে পারলো না।
কলি কবিরের পায়ে ধরেও অনেক কান্নাকাটি করলো কিন্তু কবির কলির দিকে ফেরেও তাকালো না।
শুধু এই কথাই বললো কবির কলিকে তুমি যেদিন আমাকে বিদেশ পাঠাবে, আমি সেদিন আসবো, এই কথা বলে কবির তাহার সব কিছু নিয়ে ঘর থেকে বের হয়ে গেল। কবির চলে গেল কিন্তু কবির বুঝতে পারলো না সে তাহার কি সম্পদ কলির কাছে রেখে যাচ্ছে।এদিকে কবির ঘর থেকে বের হবার সাথে সাথে কলি চিৎকার করে জ্ঞান হারালো, কলির চিৎকার শুনে বাড়ীওয়ালি আসলো এবং কলিকে বিছানায় তুলে শোয়ে দিল এবং কলির মাথায় পানি দিতে লাগলো।আর বাড়ীওয়ালি কলির মাকে ফোন দিলেন।
কলির মা ফোন পেয়ে পরের দিন কলি বাসায আসলেন। কলির মা কলির এ অবস্হা দিকে কলিকে ডাক্তরের কাছে নিয়ে গেলেন। ডাক্তার দেখালেন এবং একটি টেস্ট দিল ডাক্তার, টেষ্টে ধরা পড়লো কলি মা হতে চলছে।
পরের সকালে কলির মা কলিকে নিয়ে সিলেটে আসলেন। বাড়ীতে এসে কলি
আরও অসুস্হ হয়ে গেল মানষিক ভাবে
এদিকে কলির মা কলিকে চাপ দিতে লাগলেন বাচ্ছা নষ্ট করার জন্য, কিন্তু কলি তাহাতে রাজি হল না।
সে মাকে বুঝিয়ে বললো বাচ্ছা সে নষ্ট করবে না এই বাচ্ছাই তাহার আগামি
পথ চলার পাথেয়। মায়ের কাছে অনেক কাঁদলো। মেয়ের কান্না দেখে কলির মা আর কিছু বললেন না। কলি দুঃখ কষ্ট মধ্য দিয়ে তাহার দিন চলতে থাকলো।
দশ মাস দশ দিন পর কলির কোল জুড়ে ফুটফুটে একটি ছেলে সন্তান আসলো। সন্তানের মুখ দেখে তাহার সব দুঃখ কষ্ট দুর হযে গেল।যন্তন করে বাচ্ছাকে লালন-পালন করতে লাগলো
কবিরকে আস্তে আস্তে ভুলে যেতে লাগলো। এদিকে বাচ্ছার বয়স তিন মাস হতেই কলির বোন আমেরিকা হতে দেশে ফিরলেন। উনি দেশে এক বছর থাকলেন, যাবার সময় কলির বাচ্ছাকে সাথে নিয়ে আমেরিকাতে চলে গেলেন। বাচ্ছার সুন্দর ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে, কলি বাচ্ছাকে বোনের সাথে দিতে বাধ্য হল।

কবির আজও জানলো না তাহারই ঔরষজাত একটি সাত রাজার ধন কলির কোলে আছে।

কবির কলিকে ফোন দিত কিন্তৃ কলি কখনো ফোন ধরতো না। আজ ও অবধি কলি কবিরের ফোন রিসিভ করে না।দেখতে দেখতে সাতটি বছর পার হয়ে গেছে কলি একাকী কাটিয়ে দিতেছে তাহার জীবনের প্রতিটি দিন। ভাই বোন অনেক চেষ্টা করেছেন কলিকে বিয়ে দিবার জন্য কিন্তু কলি রাজি হয়নি। কলি তাহার বাচ্ছাকে নিয়ে বাকি জীবন অতিবাহিত করতে চায়।

সমাপ্তি,,,

জ্যোৎস্না রহমানের কবিতা – সুন্দর ভূবনে

সুন্দর ভূবনে

জ্যোৎস্না রহমান


মরিব-মরিব বন্ধু তব বিরহ শোকে, হারাতে চাইনা তোকে
এই সুন্দর ভূবনে।

যদি যাবে ভূলে কাজ নাহি কোন ছলে,
এক বুক জ্বালা নিয়ে ঘর বাঁধিব
বিজন কাননে।
হারাতে চাইনা বন্ধু তোকে এই জীবনে।

নাহি ভয় নাহি লাজ
প্রেমপ্রীতি সরাতে বিরাজ
কথা দাও কথা বন্ধু ভূলিবেনা জীবনে মরণে।
হারাতে চাইনা তোকে এই সুন্দর ভূবনে।

জ্যোৎস্না রহমানের ছোট গল্প, একটি মেয়ের অন্ধ প্রেম (পর্ব-৬)

ছোট গল্প-

একটি মেয়ের অন্ধ প্রেম

জ্যোৎস্না রহমান


পর্ব-৬


বন্ধুরা, পুরুষ শাষিত সমাজে নারীরা কতটুকু অধিকার পাচ্ছে কতটুকু সম্মান পাচ্ছে। কবিরের মত পুরুষদের কারণে নারীরা লাঞ্ছিত হচ্ছে সমাজে।নারীরা পতিতাতে আশ্রয় নিতেছে সেই পুরুষদের কারণে, পুরুষকে বিশ্বাস করাটাই কি নারীদের ভূল।


বন্ধুরা, গল্পতে আসি।

কবিরের ব্যবহারে অত্যাচারে কলি দিন দিন অতিষ্ঠ হয়ে উঠলো, প্রায়ই কলি কবিরের সাথে ঝগড়া করতো এবং কখনো ভালোবেসে কাছে বসে বুঝাতো। চোরে কি ধর্মের কথা বুঝে। দেখতে দেখতে ভাঙা গড়ার মধ্য দিয়ে কলি আর কবিরের সংসারের চার বছর অতিবাহিত হল। একদিন রাতে কলির খুব জ্বর উঠলো বাসায় কবির নাই, দু-দিন হল কবির বাসাতে আসে নাই, কলি কবিরকে ফোন দিল
এবং কবিরকে বললো তুমি বাসায় আসো আমার খুব জ্বর, কলির কথা শুনে কবির কলিকে বললো তুমি তোমার মায়ের কাছে চলে যাও আমি আসতে পারব না। কলি কবিরের কথা শুনে ফোন রেখে, বাসার মালিকের বউকে ডাকলো। মালিকের বউ কলিকে খুব ভালোবাসতো কলির অবস্হা দেখে কলির মাথায় পানি দিল ও তাহার ঘর থেকে জ্বরের জন্য প্যারাসিটামল খাওয়ালো এবং কলিকে বুঝালো। কলিকে বললো এই ভাবে তুমি জীবন কাটাতে পারবেনা তুমি তোমার মায়ের কাছে চলে যাও। কলি চুপচাপ মালিকের বউয়ের কথা শুনলো কিছুই বললো না। কিন্তু মনে মনে ভাবলো সত্যিই এই ভাবে কি জীবন চলে। কবির দু-দিন পর বাসায় আসলো কিন্তু কলির সাথে কোনো কথাই বললো না। পরের দিন সকালে কলিকে জিজ্ঞেস করলো তোমার কি জ্বর কমে নাই, কলি উত্তরে শুধুই বললো, না। তারপর কবির কলিকে বললো আমি অন্যখানে চলে যাব তোমার সাথে আমি আর থাকতে চাইনা, এ কথা বলে কবির তাহার কাপড় চোপড় গুছাতে লাগলো, কলি শোয়ে ছিল কবিরের কাপড় গুছানো দেখে বিছানা থেকে নেমে আসলো এবং কবিরকে জড়িয়ে ধরে কাঁদতে লাগলো
কবিরকে বললো তুমি চলে গেলে আমি কি নিয়ে থাকব।
(চলবে)

জ্যোৎস্না রহমানের গল্প- একটি মেয়ের অন্ধ প্রেম (পর্ব-৫)

ছোট গল্প-

একটি মেয়ের অন্ধ প্রেম

জ্যোৎস্না রহমান


পর্ব – ৫


বন্ধুরা, গল্পটি ছোট করে নিব আমার ব্যস্ততার কারণে।
কলির সংসার তিন মাস ভালই কাটছিল। তিন মাস পর কলির বিশ্বাস ভাঙতে শুরু করলো।
বন্ধুরা এবার কবিরের কথা বলি, কবির চরিত্রহীন লোভী ছিল, এক প্রবাসি স্ত্রীর সাথে তাহার সম্পর্ক ছিল এবং ওই মহিলাকে নিয়ে চার বছর এক ভাড়া বাসাতে থেকেছে স্বামী স্ত্রী পরিচয় দিয়ে।তাদের অবৈধ দু-বছরের একটি সন্তানও আছে। প্রবাসি তাহার স্ত্রীকে তালাক না দেওয়াতে কবির ওই মহিলাকে বিয়ে করতে পারে নাই।
বন্ধরা, কলি কবিরের এক বন্ধুর কাছ থেকে সব জানতে পারলো, আরো জানতে পারলো কবিরের মা-বাবা ভাই-বোন সব আছে, কিন্তু কলির কাছে কবির বলছিল তাহার কেউ নেই সে এতিম। কলি সব কিছু জেনে প্রায় পাগলের মত হযে গেল, তাহার মাকে ফোন করে বিস্তারিত জানালো, মা সব কিছু জেনে মেয়ের কাছে ছুটে আসলেন। কলি ঠিকমত খাওয়া দাওয়া করতো না সব সময় রুমে দরজা বন্ধ করে থাকতো কাহারো সাথে বেশি কথা বলতো না। কবির কলির প্রতি তেমন নজর রাখতো না। কলি নিজের সাথে নিজে দ্বন্দ করতে করতে পাগল হয়ে গেল, কলির মা কলিকে ডাক্তার দেখালেন এবং ছয় মাস পর কলি স্বাভাবিক হতে লাগলো। কলির মা কলিকে তাহার বাড়ীতে নিয়ে আসতে চাইলেন কিন্তু কলি আসতে রাজি হল না। বাড়ীতে এসে কি ভাবে ভাইদের কাছে মুখ দেখাবে। কলি তাহার মাকে বললো মা আমাকে কিছুদিন সময় দাও আমি কবিরকে বুঝিয়ে ভাল করে নিব।
মেয়ের কথা শুনে কলির মা,বাড়ীতে চলে গেলেন। কলির একা বাসায় সময় কাটেনা তাই সে নিজেকে ভাল রাখার জন্য প্রাইভেট একটি স্কুলে চাকুরি নিল। এদিকে কবির ঠিকমত বাসায় আসতো না, দু-একদিন পর পর বাসায় আসতো,
কলি কবিরকে কিছু বলতে গেলে কলিকে মারধর করতো। আর কলিকে বলতো তুমি তোমার ভাইদের সাথে আলাপ করে আমাকে বিদেশ পাঠিয়ে দাও, তারপর সব ছেড়ে তোমার কাছে চলে আসবো, আমি তো তোমাকে বিয়ে করছি বিদেশ যাবার জন্য।

(চলবে)